বাসা বদল করুন ঝক্কি ঝামেলা ছাড়া

বাসা-বদলের-ঝক্কি-ঝামেলা-এড়াতে-চান?

এমন একটা সময় ছিল ঝক্কি ঝামেলা ছাড়া বাসা বদল করার কথা চিন্তাও করা যেত না। কাজটি যদিও ঝামেলার এটি বলার অপেক্ষা রাখেনা, তবে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে এই ঝামেলাপূর্ণ কাজটি খুব সহজে করা সম্ভব। অনেকেই কম খরচে বাসা বদল করতে গিয়ে লাখ টাকার আসবাপত্র নষ্ট করে মাথায় হাত পরার মত অবস্থা হয়। যেমন নাকি বিড়ালের জন্য হাতি গচ্চা দেওয়া। এজন্য বাসা বদল কোম্পানী নির্বাচন করার পূর্বে খরচের চেয়ে গুনগত মান বিবেচনা করে শিফটিং এজেন্সী নির্বাচন করা উচিত। প্রযুক্তির এই যুগে যখন সবকিছু হাতের মুঠোয় তবে কেন নিজে নিজে বাসা বদল করতে গিয়ে অযথা অর্থ ও সময় অপচয় করবেন।

কিছু নিয়ম নীতি মেনে ও পূর্ব পরিকল্পনা মেনে চললে সকল ঝামেলা এড়িয়ে স্বচ্ছন্দে বাসা পরিবর্তন করতে পারবেন। এতে করে আপনার টাকাও কম খরচ হবে ও আসবাবপত্র ক্ষয়-ক্ষতি হইতে হেফাজতে থাকবে।  পূর্ব প্রস্তুতি ও সচেতন থাকা ব্যস! এই কয়টি বিষয় মাথায় রাখলে বাসা পরিবর্তনের সময় নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।সর্ব প্রথমে কোন্ এলাকায় বাসা নিবেন ইহা ঠিক করুন। কোন এলাকায় বাসা ভাড়া নিলে আপনার অফিস, বাচ্চাদের স্কুল ইতাদিতে আসা যাওয়ার সুবিধা হবে ইহা মাথায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার নিজের চেয়ে সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে আগে গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি নিজে দূর থেকে গিয়ে অফিস করতে পারবেন। কিন্ত ছেলে-মেয়েদের যদি আসা যাওয়া দূর হয় তবে কাছাকাছি বাসা ঠিক করাই ভাল। আপনি যেখানে বাসা ভাড়া নিচ্ছেন এর আশেপাশে বাজার, মসজিদ, হাটাহাটি করার জায়গা আছে কিনা এটিও মাথায় রাখতে হবে।

যাই হোক মোট কথা বাসা ভাড়া নেওয়ার আগে চিন্তাভাবনা করে ভাড়া নিতে হবে। এমন যেন না হয় একটি বাসা ভাড়া নিলেন কিন্তু উঠে দেখলেন এই সমস্যা ওই সমস্যা। তাই ভাড়া নেওয়ার আগে খোঁজ খবর নিতে হবে। কোন সমস্যা আছে কিনা। কারন বাসা একবার ভাড়া নিয়ে সেই বাসায় উঠে আবার কিছুদিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া খুবই বিরম্বনার একটি কাজ।

এতে করে অর্থের অপচয়, ফার্ণিচার ডেমেজ হওয়া, সময় নষ্ট হওয়া ইত্যাদি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কষ্টতো হবেই। আরো নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। এজন্য একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। বাসা ভাড়া চুড়ান্ত করার আগে অবশ্যই পরিবারের সকল সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে বাসা ঠিক করবেন। ইহা অবশ্যই মনে রাখবেন। যদি নতুন বাসায় উঠে কোন রকমের সমস্যা হয় তবে সকলেই আপনাকে দোষারোপ করবে।

বাসা বদল

বাসা বাদল | বাসা পরিবর্তন

বাসা বদল এর প্যাকিং যদি নিজে করাতে চান?

বাসা ভাড়া নেওয়া হয়ে গেলে ঠিক করুন প্যাকিং কি আপনি নিজেরা করবেন নাকি শিফটিং কোম্পানী দিয়ে করাবেন। নিজেরা করলে এক রকম প্রস্তুতি আর কোম্পানীর লোক দিয়ে করালে এক রকম প্রস্তুতি। যদি নিজেরা করেন তবে প্যাকিং ম্যাটারিয়ালস কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন ইহা চিন্তা করতে হবে। তবে ভিন্ন ভিন্ন জায়গা হতে এসব সংগ্রহ করতে গেলে টাকা খরচ হবে বেশী।

তাছাড়া এগুলো সংগ্রহ করতে অনেক দূর দূরান্তে যেতে হবে। মোট কথা এগুলো আপনার দ্বারা সম্ভব হবেনা। তারচেয়ে সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো মুভিং কোম্পানীকে বলবেন প্যাকিং আমরা নিজেরাই করবে আপনার প্যাকিং ম্যাটারিয়ালস সরবরাহ করবেন। ব্যস! প্যাকিং করার চিন্তা দূর হয়ে গেল, সময় মত প্যাকিং ম্যাটারিয়ালস পাঠিয়ে দিবে। এখন প্রশ্ন হলো আপনার কি কি লাগবে। আপনার বাসার মালামালের ধরন, গুনগত মান ও শিফটিং এর দূরত্ব অনুযায়ী প্যাকিং ম্যাটারিয়ালস প্রয়োজন হয়। যেমন: কার্টুন বক্স, নিউজ পেপার, করিগেটেট রোল পেপার, টেপ, সুতলী, বাবল পেপার, ফোম পেপার ইত্যাদি। আপনি চাইলে এগুলো প্রতি পিস হিসেবেও নিতে পারেন।

আর যদি শিফটিং কোম্পানী দিয়ে প্যাকিং করাতে চান?

নিজেরা প্যাকিং করা আসলেই একটি ঝামেলার কাজ আর এত সময়ই পাবেন কোথায়। আর যদি এজমার রোগ থেকে থাকে তবে এ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। এর চেয়ে ভালে সকল দায়িত্ব শিফটিং কোম্পানীকে দিয়ে দিন তারাই সকল দায়িত্ব নিয়ে আপনার সকল জিনিসপত্র খুব সুন্দর করে প্যাকিং করে দিবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখবেন। কিছু ব্যাক্তিগত ও মূল্যবান জিনিসপত্র অবশ্যই আপনার নিজেদের প্যাকিং করতে হবে। যেমন: কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এলইডি টিভি ইত্যাদি।

 10 টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস ফলো করুন বাসা বদলের আগে।

  1. সাধারনত মানুষজন মাসের শেষের দিকেই বাসা বদল করে থাকেন। এজন্য মাসের শেষে ভাল শিফটিং কোম্পানীর সিড়িয়াল পাওয়াও বেশ কঠিন হয়ে যায়। আমাদের কোম্পানীর ২০-২৫ তারিখের মধ্যেই বুকিং সম্পন্ন শেষ হয়ে যায়। তাই চেষ্টা করু ২৫ তারিখের মধ্যেই যেন শিফটিং এর তারিখ করা যায়।
By |2020-04-22T15:35:07+00:00April 9th, 2020|বাসা বদল ব্লগ|
01774708090